সিমেন্ট খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারদর গত সপ্তাহ শেষে ২৭ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির সমাপনী শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ২৭৩ টাকা ৬০ পয়সা, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২১৪ টাকা ৪০ পয়সা। এতে কোম্পানিটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) হাইডেলবার্গের আয় হয়েছে ১ হাজার ১১৫ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪১ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরে নিট মুনাফা ছিল ৫০ কোটি টাকা। তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৩১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ টাকা ৯৪ পয়সা।
সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) হাইডেলবার্গের আয় হয়েছে ২৯৩ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৩৬৫ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির প্রায় ৮০ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যেখানে প্রায় ৩ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল। তৃতীয় প্রান্তিকে হাইডেলবার্গের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ৪৮ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭২ টাকা ১ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে হাইডেলবার্গ পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৮ টাকা ১৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৪ টাকা ১৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৭ টাকা ২০ পয়সায়।
এর আগে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করে হাইডেলবার্গের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ১৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ৮ টাকা ৪১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৬০ টাকা ৭ পয়সায়।
১৯৮৯ সালে দেশের পুঁজিবাজারে আসা হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মুলধন ৫৬ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৫ কোটি ৬৫ লাখ ৩ হাজার ৫৮০। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৬০ দশমিক ৬৭ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৮ দশমিক ৪২ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।